চুলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য

Element of hair

চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত, এর মধ্যে অন্যান্য উপাদান এবং অণুও রয়েছে যা এর বাহ্যিক চেহারা এবং বৈশিষ্ট্য গঠনে অবদান রাখে।

চুলের সামগ্রিক রাসায়নিক গঠন হ’ল ৪৫% কার্বন, ২৮% অক্সিজেন, ১৫% নাইট্রোজেন, ৭% হাইড্রোজেন এবং ৫% সালফার।

চুলের শ্যাফট মূলত কেরাটিনের সমন্বয়ে গঠিত। চুলের কেরাটিন শক্ত, সন্নিবিষ্ট এবং মজবুত। এই তন্তুযুক্ত প্রোটিন ধীরে ধীরে জীবাণু স্তর থেকে কোষের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। এই কিউটিকাল কোষগুলি নিরাকার কেরাটিনের উপস্থিতি দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যখন কর্টিকাল কোষগুলি ক্যারেটিনিক পদার্থ দ্বারা বেষ্টিত ফিলামেন্টগুলির কাঠামোতে থাকে যা সালফার সমৃদ্ধ এবং এমিনো অ্যাসিড ধারণ করে। এই ফিলামেন্টগুলির কেরাটিন, হেলিক্স গঠন করে, একটির থেকে আরেকটির দূরত্ব ০.৫১ ন্যানোমিটারের এবং কাঠামোটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা গঠিত। এই প্রোটিন চুলের সংশ্লেষ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যে মূল ভূমিকা পালন করে।

চুলে ১২ থেকে ১৫% পানি রয়েছে এবং এর খনিজ উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, তামা, দস্তা, আয়রন এবং সিলিকন। এই উপাদানগুলি রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে চুলের ফলিকেলের গোড়ায় পৌছে যায় এবং চুলের শ্যাফ্ট তৈরিতে ভুমিকা রাখে।

চুলে লিপিড উপাদানগুলিও রয়েছে (এর গঠনের ৩%)। এগুলি স্টেরল, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সিরামাইড থেকে চুলের বাল্বে উৎপাদিত হয়। মূলত এরা কর্টেক্স এবং কিউটিকেলের আন্তঃকোষীয় সিমেন্টে উপস্থিত থেকে, চুলকে একটি নির্দিষ্ট পানি বা তরল অগ্রাহি ক্ষমতা সরবরাহ করে এবং চুলের ফাইবারের সংহতি নিশ্চিত করে।

অন্যান্য লিপিডগুলি সেবেসিয়াস গ্রন্থির স্রাব থেকে আসে: সিবাম। সিবাম পরিপক্ব সেবেসিয়াস কোষ থেকে গঠিত যা ফেটে বের হয় এবং এতে মূলত লিপিড থাকে (ট্রাইগ্লিসারাইডস, মোম, স্ক্যালেন, এসটারাইফাইড কোলেস্টেরল এবং ফ্রি কোলেস্টেরল)। সর্বাধিক প্রচুর পরিমাণে ট্রাইগ্লিসারাইডগুলি মাথার ত্বকে থাকা প্রোপিওনিব্যাক্টেরিয়াম অ্যাকনেস এবং প্রোপিওনিব্যাক্টেরিয়াম গ্রানুলোজামের মাধ্যমে আংশিক হাইড্রোলাইসিসের মধ্য দিয়ে যায়। এই হাইড্রোলাইসিস ফ্যাটি অ্যাসিড, ডিআই- এবং মনোগ্লিসারাইড এবং গ্লিসারল নিঃসরণ করে।

ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি কার্বন চেইন দ্বারা জোড় বিজোড় (সি ১১ থেকে সি ১৯ পর্যন্ত) সহ অসংখ্য অসম্পৃক্ত বিভাগ এবং শাখা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মোমগুলি হচ্ছে অ্যাসিড এবং দীর্ঘ-চেইন অ্যালকোহল। মোমগুলি হ’ল অপোলার যৌগ যা উদ্ভিদের দ্বারা বিপাক হয় এবং জারণ দ্বারা সামান্য প্রভাবিত হয়।

সিবেসিয়াস গ্রন্থিতে অ্যাসিটেট অণুগুলি মেলোভোনিক অ্যাসিড গঠন করে, একটি আইসোপ্রেনয়েড আইসোমার এবং স্কোলেইন, ৩০ টি কার্বন পরমাণু থেকে গঠিত একটি লিনিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি করে। স্টেরলগুলি ফ্যাটি অ্যাসিড দ্বারা নির্ধারিত হয়। পৃষ্ঠতল হাইড্রোলিপিডিক ফিল্মের স্কোলেইন / কোলেস্টেরল অনুপাত হ’ল সেবেসিয়াস গ্রন্থি এবং এপিডার্মিসের জৈবিক ক্রিয়াকলাপগুলির একটি আয়না। লিপিড মিশ্রণটি যা ত্বকের তলদেশে এই ফিল্মটি তৈরি করে চুলগুলি তৈলাক্ত করে এবং এইভাবে চুলের স্নিগ্ধতা এবং চকচকে সংরক্ষণ করে। হরমোন নির্ভর হওয়ায় সিবাম অতিরিক্ত পরিমাণে উৎপাদিত হতে পারে এবং যা চুলকে চিটচিটে এবং ভারী করে। অন্যদিকে খুব অল্প পরিমাণে নিঃসেরিত হলে চুল শুকনো, নিস্তেজ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

স্ক্রাবার কি ত্বকের জন্য জরুরী?

স্ক্রাবার কি ত্বকের জন্য জরুরী?
উত্তর হলো অবশ্যই জরুরী।
কেন?
– ত্বক সুন্দর রাখার প্রথম শর্ত হল প্রথমেই তাকে ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ত্বকে অনবরত জমা হচ্ছে মৃত কোষ। আর এই মৃত কোষ গুলোকে পরিষ্কার করার জন্য দরকার স্ক্রাব; অর্থাৎ ফেস স্ক্রাব।

বাজারে অনেক ধরনের স্ক্রাবারই পাওয়া যায়। হেয়ার ফুডের স্ক্রাবার কিনবেন কেন?

– হেয়ার ফুডের কাস্টমাররা উত্তর ইতোমধ্যে জানেন। আবারও বলি এর প্রতিটি উপাদান পুরোপুরি প্রাকৃতিক। এর এতে মেশানো নেই কোন প্রিসারভেটিভ।
অন্যান্য রূপচর্চায় প্রয়োজনীয় উপাদান ছাড়াও এতে স্ক্রাবিং ইনগ্রেডিয়েন্টস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে চালের গুড়া। আর
চালের গুঁড়া ত্বক এক্সফলিয়েট করে এবং ব্ল্যাকহেডস দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে।

সপ্তাহে কয়দিন ব্যবহার করবেন?
– স্ক্রাবিং জরুরী কিন্তু প্রতিদিন না। সপ্তাহে এক থেকে দুইদিন যথেষ্ট। আর কখনো আউটিং এ গেলে যেখানে ত্বক খুব ধুলোবালির স্পর্শ পেয়েছে সেদিনের জন্য স্ক্রাবিং অবশ্যম্ভাবী।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?
– পানিতে গুলে। কিন্তু কেউ ক্রিমি টেক্সচার চাইলে পানির সাথে মেশাতে পারেন অল্প একটু বেবি ক্রিম বা লোশন।

চারকোল পিল অফ মাস্ক

ছোটবেলায় দাদি নানিদের কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে দেখেছেন, কখনো? সেই কয়লা বা চারকোল কিন্তু এখন বিভিন্ন সৌন্দর্যচর্চার কাজেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। অবাক হচ্ছেন? সাধারণ আবস্থায় চারকলে ছাই থাকায় তাতে কার্বন থাকে না. সাধারণ কয়লাকে অক্সিজেন দিয়ে ট্রিটেড করার পরই তৈরি হয় অ্যাক্টিভেটেড চারকল। বর্তমানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন স্কিনকেয়ার সামগ্রীতে মূল উপাদান হিসেবে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল যুক্ত করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

যে কোন জৈব পদার্থ পুড়িয়ে চারকোল বানানো যায়। এটা কাঠ, নারিকেলের ছোবড়া কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পাওয়া যায়। চারকোলের উৎস যেটাই হোক, একে অ্যাক্টিভেটেড বা সক্রিয় কার্বন তখনই বলা যাবে যখন অনেক উচ্চতাপে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে এর অভ্যন্তরীণ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়। যেখানে অণুগুলি ভ্যান ডের ওয়েলস ফোর্সেস বা আকর্ষণীয় অন্যান্য বন্ড দ্বারা কার্বনের অভ্যন্তরীণ ছিদ্র কাঠামোর মধ্যে আটকা পড়ে এবং একটি শক্ত পৃষ্ঠে জমা হয়। অ্যাক্টিভেটেড চারকোল বা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন বলতে একই জিনিস বোঝায়।

তবে, আমাদের সাধারন পিল অফ মাস্ক অলরেডি একটি আছে। যা কিনা ত্বকের হোয়াইট হেডস, ব্লাক হেডস, মৃত কোষ উঠাতে সাহায্য করে। এবার এর সাথে যোগ করা হয়েছে অ্যাকটিভেটেড চারকোল, যা বায়ুদূষণ থেকে আপনার ত্বকে জমা হওয়া ক্যামিক্যাল পার্টিকেলগুলো দূর করবে। এছাড়া এতে আছে বিনচোটান চারকোল নামের উপাদান যা ত্বকের ভেতর থেকে পরিস্কার করার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বলও করে।

যে কেউ স্কিন সমস্যা দূর করতে চারকোল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

কেন ব্যাবহার করবেন? সারাদিন ধরে চারপাশের টক্সিক বা দূষিত উপাদানগুলো আমাদের লোমকূপ বন্ধ করে ফেলে। লোমকূপের গোঁড়া পরিষ্কার না থাকলে মুখের রঙ ডার্ক লাগে। অ্যাক্টিভেটেড চারকোল-সমৃদ্ধ মাস্ক মুখে অ্যাপ্লাই করলে তা পরিষ্কার হয়।

হেয়ার ফুডের ফেইস ওয়াশ

প্রতিদিনকার মত আজও নিসা ক্লাস থেকে এসেই পোশাক পালটে ঠান্ডা পানির বোতলটা হাতে নিয়ে বসে পড়ল। প্রচন্ড গরমে ভীষণ রকম খারাপ লাগছে তার, আর ধুলা-ময়লায় চোখ মুখ ও লাল হয়ে চুলকাচ্ছে। পুরোপুরি অস্বস্তিকর একটা অবস্থা।
এরই মধ্যে কলিং বেল বাজল। এক দৌড়ে জিলবাব টা পড়েই সে চলে গেল দরজা খুলতে।
“দোস্ত কেমন আছিস?”
দোস্ত, আলহামদুলিল্লাহ” বলে নিসা তার ছোট বেলার বান্ধবী তইয়্যেবা কে ভিতরে ডাকল। ঠাণ্ডা শরবত বানিয়ে বান্ধবীকে নিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে বসল।
তইয়্যেবা- আরে দোস্ত বাইরে এত গরম পড়ছে যে বলার মত না, এদিক থেকে যাচ্ছিলাম ভাবলাম একটা ঢু মেরে যাই তোর বাসায়।
নিসা- ভাল করছিস দোস্ত। অনেকদিন ধরে তোকে মিস করছিলাম। আসলে এই ক্লাস করে এসে আর কোথাও যাওয়া হয়না। প্লাস এত গরম পড়ছে, আল্লাহু আকবর। চোখ নাক মুখ জ্বলতেছে।
তইয়্যেবা- তুই একটু ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ টা ধুয়ে আয়। আর মুখের জন্যে ন্যাচারাল ফেইস ওয়াশ ইউজ করবি। দেখবি মুখেও শান্তি লাগবে।
নিসা- দোস্ত আমি আসলে লোকাল কিছু প্রোডাক্ট ইউজ করতাম, এখন দেখতেছি এগুলাতেও ভেজাল কি যে করব, আল্লাহু আলাম।
কথাটা শেষ করেই গোমড়া মুখ করে নিসা বসে আছে। এই ফাঁকেই তইয়্যেবা ফেইসবুক টা খুলে কি যেন বের করছে।
নিসা- এই তুই ফেইসবুক এ কি করতেছিস? আমাকে পারলে সলিউশন দে রে দোস্ত এগুলা রাখ।
তইয়্যেবা- আরে তোর সলিউশন ই খুজে বের করলাম তোকে দেখাব বলে। আমার কাজিন আমাকে অনেক আগে হেয়ার ফুডের এর এই ফেইস ওয়াশ টা সাজেস্ট করেছিল। আলহামদুলিল্লাহ। দোস্ত খুব ই উপকার পেয়েছি, তাই ওদের পেইজ থেকে খুঁজে বের করলাম, যাতে তুই ও ব্যবহার করে দেখতে পারিস।
নিসা- কই দেখি দেখি। জাযাকিল্লাহ দোস্ত। আমি এখনই অর্ডার করতে চাই।
তইয়্যেবা- হা হা আচ্ছা দোস্ত তোর ডিটেইলস আর এড্রেস দিয়ে দে, খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবি ইন শা আল্লাহ।

হেয়ার ফুডের ফেইস ওয়াশ টি ব্যবহার করে আসলেই অনেক উপকার পেয়েছে নিসা, আলহামদুলিল্লাহ। আপনারাও দেরি না করে ট্রাই করে দেখুন আর উপকার পেলে কিন্তু অবশ্যই আমাদের জানাবেন আপনার অভিজ্ঞতা।

চুল পড়া কমিয়ে চুল গজাতে হেয়ার প্যাক

নিজেকে ভালোবাসা, সুন্দর রাখা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আর তাই তো ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে নিজের যত্ন নিতে পছন্দ করে সবাই। আয়নায় নিজের চেহারা দেখে পুলকিত হয়। কিন্তু অনেক সময়ই এই পুলকিত চেহারা মিইয়ে একরাশ মন খারাপ করা কালো মেঘের আড়ালে। কারণ হিসেবে হয়ত দেখা যায় তার এতদিনের এত সাধের দীঘল কালো মেঘবরণ কেশ তার থেকে বিদেয় নিয়ে রেখে গিয়েছে ফাঁকা চাঁদি।

আর এতেই ঘটে বিপত্তি। চিন্তিত, বিষণ্ণ আর হন্যে হয়ে সমাধান খুঁজতে থাকে, কী করলে আগের মত মাথাভর্তি চুল ফিরে আসবে। যার থেকে যা শোনে, যা দেখে তাই প্রয়োগ করে যদি ফিরে পায় বহু সাধনার হারিয়ে যাওয়া কেশমালা। কিন্তু কোথাকার কী? সমাধান যেন হয় না, বরং মাথার তালু আরো ফাঁকা হতে থাকে।

আগেকার যুগের মানুষ বর্তমান সময়ের মত রাসায়নিক উপাদান যুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করত না ত্বক কিংবা চুলের যত্নে। প্রকৃতির মাঝে থাকা নানান উপাদান বেছে নিত আর সেজন্যই হয়তো তারা বর্তমান সময়ের মত এত সমস্যায় পড়ত না। তাদের চুলের যত্নে ব্যবহৃত জিনিসগুলোর মধ্যে থাকত – আমলকি, বহেরা, হরতকি, মেথি, রিঠা, শিকাকাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবের সাথে যোগ করত টক দই, ডিম কিংবা মধু। আর এতেই যাদুকরী ফল পেত, মাথা ফাঁকা হয়ে গড়ের মাঠ তো হতই না বরং ঘন অরণ্য স্বরূপ কৃষ্ণবরণ কেশ পেত।

বর্তমানে এসব উপাদান দুর্লভ হলেও পাওয়া যায় না এমন নয়। আর এই দুর্লভ বস্তুগুলোকে হাতের নাগালে নিয়ে আসার কষ্ট সাধ্য কাজ করে যাচ্ছে হেয়ার ফুড। সব উপাদানের সঠিক অনুপাতে হেয়ার ফুড বানিয়েছে এই হেয়ার প্যাক, যা চুল পড়া কমিয়ে চুল গজাতে সহায়ক। আর এই হেয়ার প্যাকের পাশাপাশি যদি এসেনশিয়াল অয়েল রাখা যায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। এই দুইয়ের মেলবন্ধন যেন চুলের যত্নে হয়ে ওঠে অতুলনীয় এক রক্ষাকবচ।

Hair Food